চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাস ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১১ জন নিহতদের ঘটনায় বাস চালকের ‘খোঁজ’ পায়নি পুলিশ।
এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও চালকের কোনো হদিস মেলেনি বলে জানিয়েছেন দোহাজারি হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী মামলা হয়েছে, কিন্তু বাস চালককে শনাক্ত করা যায়নি।
তবে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন মিঞা বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, লোহাগাড়ায় যে বাসটা (রিল্যাক্স পরিবহন) অ্যাকসিডেন্ট করেছে এর চালক ‘ওভারলোডেড ছিলেন’।
যার কারণে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন কিছুটা। তিনি টানা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। জাঙ্গালিয়ার ওই বাঁকে যাওয়ার পর বাসটি আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চালক হার্ড ব্রেক করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তাও লবণের পানির কারণে কিছুটা পিচ্ছিল হয়ে থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে ৪৮ ঘণ্টায় তিন দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।
বুধবার সকালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ১১ আরোহীর মৃত্যু হয়। যে স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখান থেকে মাত্র ৩০-৩৫ গজ দূরে ঈদের দিন সকালে বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
পরদিন মঙ্গলবার কাছাকাছি এলাকায় দুটি মাইক্রোবাস সড়ক থেকে উল্টে পাশের খাদে পড়ে গেলে ১২ জন আহত হন।
বুধবারের বাস ও মাইক্রোর সংঘর্ষ কী কারণে হতে পারে সে বিষয়ে জানতে চাইলে দোহাজারি হাইওয়ে থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমার ধারণা অতিরিক্ত গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটা এমন একটা স্থান যেখানে দুই দিকেই গাড়ি দ্রুত গতিতে থাকে। কক্সবাজার থেকে আসার সময় রাস্তাটি ঢালু থাকায় স্বাভাবিকভাবে গাড়ির গতি বেশি থাকে। আর দুর্ঘটনার স্থান পর্যন্ত রাস্তাটা সোজা থাকায় কক্সবাজারগামী গাড়িগুলোর গতিও বেশি থাকে।
এ প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে দুইটা গাড়িই নির্ধারিত গতি সীমার মধ্যে ছিল না। উভয় গাড়ির গতি বেশি ছিল।
এ দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা শুভরঞ্জন মাইক্রোবাস চালকের বয়সের বিষয়টিও ইঙ্গিত করেছেন।
তিনি বলেন, মাইক্রোবাসের মৃত চালক বয়স্ক লোক ছিলেন। তিনি ঢাকা থেকে সারারাত জার্নি করে এসেছেন। এ ধরনের বয়স্ক মানুষ লং জার্নি করাটাও একটা ঝুঁকি।
বুধবারের সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাস চালকসহ ঘটনাস্থলে সাত জন ও হাসপাতালে তিন জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই মহিলা আছেন।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা নামে আরও এক তরুণীর মৃত্যু হয়।
এ দুর্ঘটনায় প্রেমার বাবা রফিকুল ইসলাম শামীম, মা লুৎফুন নাহার সুমি, আট বছর বয়েসী বোন লিয়ানা, ১৪ বছর বয়েসী বোন আনীষা এবং ফুফাত বোন তানিফা ইয়াসমিনও মারা গেছেন বুধবার।
তাদের মধ্যে আনীষা ছাড়া অন্যরা ঘটনাস্থলে মারা যান। আনীষাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছিলেন।
দোহাজারি হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রফিকুল ইসলাম শামীম পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকতেন।
শুক্রবার মারা যাওয়া প্রেমা, ছয় বছর বয়েসী আরাধ্যা বিশ্বাস এবং দুর্জয় মণ্ডল নামে এক কিশোর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাদের মধ্যে আহত আরাধ্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, স্কয়ার হাসপাতালের মালিক আরাধ্যার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ কারণে শুক্রবার সকালে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
